ভোলা জেলা বার এসোসিয়েশন

শতাধিক বছরের জীবমত্ম ইতিহাস, অভিজ্ঞতার অভিজ্ঞানে সমৃদ্ধ, সাগরকন্যা উপকূলীয় ভোলা জেলার গণমানুষের আইনী সহায়তা প্রদানকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান। ভোলা জেলা বার এসেসিয়েশন ভ্রম্নন সংস্থা হিসেবে খ্রীস্টিয় ১৯০৩ সনে প্রতিষ্ঠিত ২য় ভূতপূর্ব নাম ছিল ভোলা মোক্তার বার সমিতি। দেশ বিভাগের পর ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি নামে দীর্ঘকাল আইনী কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং আটের দশকে এরশাদীয় একনায়কতান্ত্রিক শাসনামলে ভোলা মহাকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হলে ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি নামে পূণর্গঠিত হয়, ও বর্তমান সময় পর্যমত্ম ওই নামেই পরিচিত হয়ে আসছে। ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি তার কৃতিত্বপূণ অবদানের জন্য তথা রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, আইনের জগতের তাৎপর্যময় বিকাশে সফল ভূমিকা পালন করে সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

 ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মাণিত বিজ্ঞ আইনজীবীগণ ব্রিটিশ বিরোধীয় আন্দোলনে, পাকিসত্মান বিরোধীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে তথা সাম্রাজ্যবাদী যুগের কলোনিয়াল মানসিকতার বিপরীতে বাঙালী জাতি সত্ত্বায় অসিত্মত্ব রক্ষার মুক্তিযুদ্ধে ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বিনির্মাণপূর্বক স্টেট অরগান সমূহের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পূর্ণগঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, বারের সম্মাণিত সদস্যগণ অবদান রেখেছেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচার বিরোধীয় আন্দোলনে। আইনের বিকাশ, আইনের শাসন, সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, লিঙ্গসমতা, ধর্মীয় সহনশীলতা, মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিবেদিত ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি। স্বাধীনতা, তথা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত লভ্যসমূহ বাসত্মবায়নে ও অর্থনৈতিক মুক্তি প্রতিষ্ঠা কল্পে আইনচর্চার মাধ্যমে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি, এ বারের সদস্যগণ ঐতিহাসিক আদর্শিক, মতাদর্শগত মর্যাদার সাথে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে ধারন করেন, এ বারে আছেন স্বাধীনতা সংগ্রামী এ.কে.এম শাহজাহান (১), এ.কে.এম. নাছির উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান এর মতো আরো অনেক বর্ষীয়ান চেতনা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব যা ভোলা বারের নিজস্ব সম্পদ, যা অন্য কোন বারের সাথে ঈর্ষনীয় অবস্থান তৈরী করেছে। বৃহত্তর পরিসরে, ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি সার্বজনিন মানবিক মুক্তি অর্জনের দৃঢ়তা নিয়ে ন্যায় বিচার প্রত্যাশী উপকূলীয় গণমানুষের দোড় গোড়ায় ইকুইটি এন্ড জাষ্টিস পৌছে দিতে বদ্ধ পরিকর, সংকল্পে অবিচল, কোন ষ্পর্শকাতর রাজনৈতিক টানপড়েন ভোলা বারের সচেতন দৃঢ়তায় বিভেদের চিড় ধরাতে পারেনি।

ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি জন কল্যাণকর সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান, আইনের আশ্রয় গ্রহণকারীদের নিঃস্বার্থ আইনি সেবাদান করা বার সমিতির কার্যাবলীর মধ্যে অন্যতম, এ ছাড়া, বার সমিতে আইনজীবী ও ন্যায় বিচার বঞ্চিত উৎপীড়িত নিগৃহীত ব্যক্তি মানুষের কল্যাণে সহায়ক অরগান তথা বিভিন্ন উপ কমিটি যথা আইনজীবী কল্যাণ তহবিল, মানবাধিকার, উপ-পরিষদ, আইন সহায়তা উপ-পরিষদ, আপতকালীন উপ-পরিষদ ইত্যাদির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে, যদিও মূল চালিকা শক্তি ও নিয়ন্ত্রন হলো ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্য নির্বাহী কমিটি। ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি প্রগতিশীলতা, জবাবদিহিতা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার অনুপম অনুকরণীয় দৃষ্টামত্ম যা আমাদের দেউলিয়া রাজনীতির মডেল তর্কাতীত মডেল হওয়ার উপযুক্ত। ইতিহাসের পথ পরিক্রমার অনেক স্বনামধন্য, খ্যাতিমান, প্রথিতযশা, আমত্মর্জাতিক নেতৃত্বের মানসম্পন্ন, শ্রদ্ধাভাজন আইনজীবীগণ তাদের অক্লামত্ম শ্রম-মেধা, নিষ্ঠা অফুরান ব্যয় করে এই বারকে সমৃদ্ধশালী, নিয়মানুগ ঐতিহ্যের সুতিকাগারে পরিণত করেছেন। যাদের অনবদ্য মননশীলতা শ্রমসাধনা আজ কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে।

আজকের প্রজন্মের চেয়ে সেইসব প্রাক্তনজন বড় বেশী স্মরণীয়, বরণীয়, কিন্তু স্মৃতিতে উজ্জল ধ্রূবতারা। আজকের ক্রিমিনালইজড এন্ড করাপটেড পলিসিকসের যুগে ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ আইনজীবীগণ সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে। বার সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ বশির উলস্নাহ দূর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে অন্যান্য সহযোদ্ধা আইনজীবীদের নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে বার বার দূর্ণীতিবাজদের কড়া সমালোচনার মূখে পড়েছেন। মরহুম রিয়াজউদ্দিন মোক্তার সকল অপরাধ প্রবণতার বিরম্নদ্ধে ছিলেন উচ্চ কণ্ঠস্বর, দুর্ণীতিমুক্ত জনহিতকর কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করাই ছিল তার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের স্বপ্ন। এই রকম বহু ত্যাগী পুরম্নষের মহৎ চিমত্মা চেতনা মনন ধারণ করছে বার সমিতি। ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপজেলা ভোলায় অবস্থিত হইলেও জাতীয় রাজনীতির চলমান গতিধারার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে আইনের জগত, আইনজীবীদের পেশাগত মনোন্নয়ন, বার ও বেঞ্চের সুসম্পর্ক দৃঢ় করণসহ বিভিন্ন পৃথকীকরণের উত্তরকালে সমন্বিত কার্যক্রমের অভাবে বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারটি সুদৃঢ় পরাহত, সেক্ষেত্রে ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতি নষ্টদের ভিড়ে যুগের প্রমিথিউস।